আমাদের সম্পর্কে

প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭০

জামিয়া আরাবিয়া লিল বানাত
সোনারং আদর্শ মহিলা মাদরাসা

গৌরবের অর্ধশতাব্দি · কুরআন-সুন্নাহর আলোয় নারী শিক্ষা

পরিচিতি

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। ধর্মীয় শিক্ষা জাতির প্রাণ। জাগতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় যে জাতি যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত। রাতের আঁধার কেটে পৃথিবী যেমন ভোরের সূর্যে উদ্ভাসিত হয়, তেমনি জাতির সমৃদ্ধির স্বপ্ন ও সম্ভাবনা শিশুদের চোখে মুখে প্রতিফলিত হয়। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির উন্নতি নিশ্চিত হয়। শিশুর প্রাথমিক আদর্শ শিক্ষা শুরু হয় মায়ের স্নেহের আঁচলে। সুশীল সমাজ বিনির্মাণে নারী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ। জাহিলিয়াত আর কুসংস্কারে নিমজ্জিত সারা সমাজ। পুরুষদের জন্য তখন ঐশী আলোর প্রদীপ কোথাও কোথাও মিট মিট করে জ¦লছে। তবে নারী-শিক্ষা ছিল একেবারেই উপেক্ষিত। নারী জাতিকে উপেক্ষার এ অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবং বঞ্চণার কবল থেকে উদ্ধার করতে প্রয়োজন ছিল একজন রাহবারের, যে রাহবার নারী জাতির মাঝে সুশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর প্রদীপ জালবেন ঘরে ঘরে।

যুগের সেই প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে আজ থেকে প্রায় ৫২ বছর পূর্বে ১৯৭০ সালে মুন্সিগঞ্জের কৃতিসন্তান মাওলানা কাজী মোহাম্মদ আলী (রহ.) স্বীয় ভূমিতে নারীদের জন্য একটি পরিকল্পিত শিক্ষা কেন্দ্রের বুনিয়াদ স্থাপনে মনস্থির করেন। অতঃপর তৎকালিন মুসলিম বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব শহীদ মাহমুদ মোস্তফা আলমাদানী (রহ.) এর পরামর্শ ও নির্দেশনায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইলমের এই বিশাল মহিরূহ “জামিয়া আরাবিয়া লিল বানাত-সোনারং আদর্শ মহিলা মাদরাসা”।

মুন্সিগঞ্জের জেলার অন্তর্গত টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত সারা বাংলার প্রাচীনতম মহিলা মাদরাসাটি এ মহান মনীষীদ্বয়ের লালিত স্বপ্নকে ধারণ করে গৌরবের অর্ধশতাব্দি অতিক্রান্ত করতে চলেছে। আলহামদু লিল্লাহ।

মানহাজ

‘জামিয়া আরাবিয়া লিল বানাত-সোনারং আদর্শ মহিলা মাদরাসাটি’ বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের ধারায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আদর্শভিত্তিক একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

১

বঞ্চিত নারী সমাজকে তাদের মৌলিক অধিকার ইলমে নববী প্রদান করা।

২

কুরআন সুন্নাহর সহীহ ইলম প্রসারের মাধ্যমে নারী জাতিকে তথা সমগ্র জাতিকে আলোকিত করা।

৩

নারী জাতিকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে রাসুলের (সা.) আদর্শ ভিত্তিক পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা পালন করা। শিশুর প্রথম বিদ্যালয় নিজ পরিবার। মা হলেন সন্তানের মৌলিক ওস্তাদ। মায়ের শিক্ষা শিশুর জীবন পথের প্রতিটি ধাপে সবচেয়ে প্রভাবশীল ও ফলপ্রসূ। পরিবারের মা যদি হন ইসলামী শিক্ষায় আলোকিত, পরিবার হবে আদর্শ ভিত্তিক। নারী শুধু মা নয়, দেশের অর্ধ-জনগোষ্ঠী। জাতিকে উন্নত করতে হলে অর্ধজনগোষ্ঠীর সার্বিক উৎকর্ষ সাধন অপরিহার্য। শিশুর জীবন পথের প্রতিটি পদে এবং যে কোনো জাতির উন্নতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী শিক্ষা সবচেয়ে প্রভাবশীল ও ফলপ্রসূ একটি মাধ্যম।

মাদরাসার বৈশিষ্ট্যসমূহ

🏢

নিজস্ব ওয়াকফকৃত ভূমিতে ৬ তলা, ৫ তলা, ৪ তলা ও ৩ তলা আবাসন ভবন এবং নির্মাণাধীন ১০০×৪০ ফিটের ৭ তলা শিক্ষাভবন; ৫ম তলার কাজ সম্পন্ন, ৬ষ্ঠ তলার কাজ চলমান।

🕌

শরয়ী পর্দা ও নিরাপত্তার সাথে প্রায় ১২০০ নারী শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা।

📚

আদর্শ শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী দ্বারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও তারবিয়্যাত প্রদান।

👩‍🏫

তত্ত্বাবধানের জন্য ক্যাম্পাসে ২০ জন আবাসিক শিক্ষিকার সার্বক্ষণিক অবস্থান।

🌙

ইলমে দ্বীন শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে রাসূল (সা.) এর সুন্নাত অনুসরণে দীক্ষা প্রদান।

🩺

অসুস্থ ছাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান।

⚡

প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ।

🛡️

উঁচু দেয়াল, সিসি ক্যামেরা, দ্বাররক্ষী ও নৈশপ্রহরীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

❄️

ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতি তলায় ফ্রিজ ও মাইক্রোওভেনের ব্যবস্থা।

🤲

এতিম ও দুঃস্থ ছাত্রীদের লিল্লাহ ফান্ডের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদান।

🔐

প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। সাক্ষাৎ কার্ড ব্যতীত পুরুষদের সাক্ষাতের সুযোগ নেই; মহিলা দর্শনার্থীদের অফিসের অনুমতিক্রমে প্রবেশ।

📜

সম্পূর্ণ ওয়াকফকৃত ও কমিটি কর্তৃক পরিচালিত মহিলাদের উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

👥

শিক্ষানুরাগী ও সুশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।

মানসম্মত পরিচালনা ও প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্য

  • একাধিক অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষক দ্বারা আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং সরকার অনুমোদিত অডিট কোম্পানির মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন।
  • শরীয়তসম্মত অভিভাবকের উপস্থিতি ও অনুমতি ব্যতীত কোনো ছাত্রীর ভর্তি গ্রহণ করা হয় না।
  • সম্মানিত মুহতামিম মহোদয় প্রতি মাসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত পরামর্শ সভা আয়োজন করেন।
  • অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান, তাকরার, মুতালাআ, নেগরানী ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সাপ্তাহিক পর্যালোচনা।
  • মাসিক পরীক্ষা এবং ১ম সাময়িক, ২য় সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন।
  • রেজাল্ট কার্ডের মাধ্যমে অভিভাবকদের ছাত্রীদের উন্নতি-অবনতি সম্পর্কে অবহিতকরণ।
  • বিশেষ ক্ষেত্রে মাদরাসা নিজ দায়িত্বে সাময়িকভাবে ছাত্রীর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে।
  • যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া ও সদকার অর্থ নির্মাণ বা বেতন-ভাতায় ব্যবহার হয় না; শুধুমাত্র এতিম ও অসহায় ছাত্রীদের জন্য ব্যয়।